Archive for নভেম্বর, 2006

বাঘের খাঁচায় কয়েক ঘন্টা

আজিকে কমলা বর্ণের একটা ভবন ঘুরে আসলাম। ভিতরে যাই দেখি সবই কমলা। সোফা ফ্লোর ইত্যাদি। আবার জায়গায় বেজায়গায় বাঘের থাবা আঁকা স্টিকার।

যাই হোক বাংলা লিঙ্কে গেলাম ইন্টারভিউ দিতে। চারতলায় উঠে বসে থাকলাম ১ ঘন্টা। আহা কি মধুর সে বসে থাকা। আমি জানতাম ওটা পুরোটাই ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশান। তাই অবাক হলাম শুরুতে। এতো গ্ল্যামার ওয়ালা মেয়েমানুষ কোথা হতে এলো। এদের বর্ণনা দিলে অনেক হয়ত মাইন্ড করে বসতে পারেন। কেউ ভাবতে পারে আমাকে অসভ্য। কিন্তু কি করা ! যে কেউ ওখানে গেলে এমন্টাই ভাব্বে। যাই হোক আমার ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু গণের কাছে পরে জানতে পারলাম এরা করপোরেট সেল্‌স ডিপার্টমেন্টের লোকজন (মেয়েজন)। দুই একজনের সাথে চকিত চোখাচোখির চেষ্টাও করলাম। আমার নিষ্পাপ মুখমন্ডলে তারা কি দেখলো কে জানে। কিন্তু আমি ক্ষান্ত দেই নাই ওই এক ঘনটার এক মুহূর্তও।
তবে একটা দুঃখ , শীতকালে কেন গেলাম। এই শীতকালে তাদের যেভাবে দেখেছি, আফসোস টা হতেই পারে। গরম কালে ও যাওয়া দরকার বেশি বেশি। আমার বন্ধুদের মতে গরম কালে উহারা
কে কার চেয়ে স্বচ্ছ হতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগীটায় নামে। মনে হয় বুঝাতে পেরেছি এর মানে কি।
চাকুরি হবেনা জানি আমি কিন্তু এই যে মধুর কিছু মুহূর্ত পার করে আসলাম এগুলো আমার জীবনে বারংবার আসুক।
বলাই বাহুল্য আমার যময ব্রাদার AS …. ওয়ারিদ এর কর্মরত পাখীদের নিয়ে অনেক গলপ সল্প করেছিল । ভাবছি সেখানেও একবার ডাক পেলে মন্দ হতোনা।

Comments (2)

টুকরা করতেসি আমাকে

আমি টুকরো ভাবনায় বেজায় মজে আছি ।
আজকের টুকরো ভাবনা গুলো…
ক> স্টার মুভিজ এ ম্যারাথন জেমস্‌ ভন্ড মুভি দেখাইতেসে। কি যে বিরক্তিকর। যখনি খুলি তখনি শুনি…  আমি ভন্ড , জেমস্‌ ভন্ড।
খ> ভাবনা হযবরল হয়ে যাচ্ছে। একদম গুবলেট।
গ> কোন এক কবি লিখে গিয়েছিল…
তোমাকে ভালবেসে পেয়েছি অনেক কিছুই
ভালবাসা ছাড়া প্রায় সবকিছুই।
ঘ>আমার এক প্রাচীন পরিচিত লোকের ঘরের দরজায় লেখা দেখেছিলাম
“আমার ঘর আমার বেহেশ্‌ত”
দারুন আইডিয়া।
চ> অণুকাব্য নিয়ে ভাবছি। শায়েরি জিনিস টা  বেশ।
ছ> উন্মাদে প্রকাশিত একটা কথা মনে পড়লো …
” কত ধানে কত চাল এবার তুমি বুঝবা বাপধন। ”
অনুবাদঃ how many rice in how many paddy now you will understand daddy.
জ> অর্থহীন ব্যান্ডের লিরিক্‌স শুনলেই আমার হাসি পায় । ওরা যেকোন বাক্য পেলেই ছন্দ মিলিয়ে দেয়। যেমন,
” তোমার বাগান টা সাজিয়ে রেখোওওওওওওও
ঐ মেঘ গুলো শুধু ডেকোওওওওওওও”
বাহ ! ওওওওও  দিয়ে মিলিয়ে দিলো ।
এ মনে হয় গদ্য গান।
ঝ> আমার খুব প্রিয় দুটি লাইন…
“সূর্য খাচ্ছে মেঘের ভূরু , মেঘ খাচ্ছে হাওয়া,
তোমার সাথে ঘুরতে ঘুরতে আমি অস্ট্রেলিয়া।”

মন্তব্য করুন

হিউমার বনাম টিউমার

আমি ভাবনা বাদে শুধু চিন্তা করে বের করেছি যে আপামর জনতার হিউমারে বড় ধরণের টিউমার আছে অথবা টিউমার টি আমার নিজের। এই হিউমারে টিউমার সংক্রান্ত আমার প্রথম অভিজ্ঞতা জীবনে র প্রথম এবং শেষ এবং একমাত্র নাটক নিয়ে বুয়েটে লাফালফি করতে গিয়ে। স্টার ওয়ার্স,  ম্যাট্রিক্স, মিশন ইম্পসিবল এসব ডিফিকুল্ট ছবি যে জনতা মনোযোগ দিয়ে দেখেনা তা আমি জানতুম না। মাইরি বলছি। নচেৎ আমি অবশ্যি দিলদার বা টেলি সামাদ টাইপের কৌতুক সেখানে জুড়ে দিতাম। যাই হোক সে অনেক দিন আগের কথা। বাংলা বিহার ঊড়িশ্যায় তখন মূঘল বংশের রাজত্ব। লর্ড কর্ণওয়ালিশের ওয়ারিস নবাব সিরাজুদ্দৌলা কেও কবর খুঁড়ে বের করে এনেছিলাম আমার নাটকে। সিরাজুদ্দৌলা সিনেমার সেই বিখ্যাত ডায়লগ টা দিতেও ভুলিনি।
এখনো চিন্তা করি কত কিছু হজম করাতে চেছিলুম…  সংশপ্তক, ম্যাট্রিক্স, মিশন ইম্পসিবল, স্টার ওয়ার্স। হিন্দি ছবির………can you repeat the question please ? …এটাও পুরে দিয়েছিলাম।
এরপরেও কেউ মজা পায় নাই।
আসলে কাতুকুতু যে কিছু ছিলনা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাতুকুতু কি?
কাতুকুতু মানে ধ্যারধ্যার করে প্যান্ট পরে যাবে, অভিনেতা লজ্জা সম্বরণের আপ্রাণ চেস্টা করবেন ইহাই কৌতুক। রাস্তায় কলাতে আছাড় খাবেন …আহাহা কি মজা!
কাতুকুতু মানে বদনা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি স্টেজে।
কারণ টয়লেটে সিরিয়াল।
মজা করতে গিয়ে দুঃখের কথা লিখে ফেল্লাম।

মন্তব্য করুন

একটি গানের কিছু কথা

ঝিনুকে মুক্তো হলে চুপ হয়ে যায় মুখ খোলেনা…
সে যে গভীর জলে যায়গো চলে কিনার দিয়ে আর চলেনা।
ব্যাঙ্গের মাথায় লাল হইলে দিবসে সে নাহি চলে
গরুর মাথায় গো রস হইলে লম্ফ ঝম্ফ আর থাকেনা।

Comments (1)

যাবতীয় সাধনা-২

ইদানিং ইঞ্জিন ইয়ার হওয়াটা উদযাপন করিতেছি।

বুয়েট আছিলো আমার জীবনের এক বিরাট পেইন। আমার মতন মহাত্মা গোছের এমন একজন কি করিয়া অমন যান্ত্রিক জায়গায় পতিত হইলো তা আমি ভুলিয়া গিয়াছি। আমার মনে পড়িয়া যায় সেই কালো রাতের কথা যে রাতে বুয়েটের কম্পু ইঞ্জিন্ ইয়ার রিং ডিপার্টমেন্ট এর ১২০ তম অর্থাৎ সর্বশেষ ব্যক্তি হিসবে বুয়েটে আমার আগমন হইয়াছিল।  পরে খোঁজ নিয়া জানিয়াছিলাম ১২১ তম ব্যাক্তি পরে এক সপ্তাহ যাবৎ দুঃখ জনিত কান্নাকাটি করিয়াছিল। যদিও বর্তমানে ইলেক্ট্রিকাল এর জোয়ারে তাহার এখন রমরমা অবস্থা।

যাহাই হঊক নিজের কথাতে ফিরিয়া আসি। বুয়েট ভরতির প্রথম টার্মের সময়েই আমি বুঝিতে পারিয়াছিলাম আমার দ্বারা এই কার্য হইবেনাকো। ভাবিয়াছিলাম এন এস ইউ তে অর্থনীতি বিভাগে পড়িবো। কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে সেই কার্যটি সাধন করিতে পারি নাই।
এরপর আমার জীবন কাটিয়াছে কিভাবে এক লাইন প্রোগ্রামিং কোডও নিজে না লিখিয়া বুয়েট পার করা যায় তাহার নানা ফন্দি ফিকির বাহির করিতে করিতে। এই বিদ্যায় বর্তমানে আমার ব্যাপক ব্যুৎপত্তি । ভাবিতেছি জুনিয়র দের নিমিত্তে কোন ম্যানুয়েল লিখিয়া  যাইবো কিনা।

আমি একজন সাধু সন্ন্যাসী গোছের মানুষ হওয়াতে ৫ টি বছর অনেক সহ্য করিতে করিতে পার করিয়া দিয়াছি অম্লান বদনে। অনেক কটু কথা শুনিয়াছি অনেক লাঞ্চনা গঞ্জনা সহ্য করিয়া অবশেষে আমি ইঞ্জিন ইয়ার নামটি অন্তত অর্জন করিয়াছি। কিন্তু বুয়েট নামের দুর্বিষহ স্মৃতি খোদ দোযখেও আমার ঘর খানি আলোকিত করিয়া রাখিবে।

বলাই বাহুল্য আমার দুঃস্বপ্নে আমি প্রায়শই একটি দৃশ্য দেখি …।।যেখানে একটি রচনা আমাকে লিখিতে হইতেছে.. title: A (পেইনফুল)  journey THROUGH BUET.

Comments (4)

আবারো রস আসিতেসে

লেখায় হাসি নাই , মজা নাই।
মজা আসিতেছে। রস আসিতেছে।

মন্তব্য করুন

আয় হায় সিরিয়াস হইয়া গেলাম

আমি এই অল্প জীবনে সবচেয়ে বেশি দেকসি স্ববিরোধিতা। এগোরে থাপড়াইতে মন চাইসে  আমার। আমি বেচারা খুব ঠান্ডা মানুষ। কাউরে অ্যাটাক কইরা কথা কইতে আমার মনে  থাকেনা। কিন্তু মনে মনে এগোরে আমি থাপড়াই , লাথি দেই। আরো বহত কিসু। কিন্তু আমি দেখতেই থাকি। মুখে নতুনের বাণী কিন্তু কাউরে একটু আলদা দেকলেই শুরু হইবো সিস্টেম…। ক্যামনে তারে ডুবান যায়।
আরেক গ্রুপ আছে… ফাস্ট টাইম কারো লগে পরিচয় হইলো …এক চোট পার্ট লইয়া লইবো…।। হাম ইয়ে হায় ………য়ো  হায়…।জো হ্যায়…।  তারপর শুরু হইবো  u r inferior to me  এটা প্রমাণ করার প্রানপণ চেস্টা। তোমার বুদ্ধি নাই তোমার এই নাই সেই নাই…।। সুতরাং আমি সেরা তুমি ভেড়া। এগুলা প্রমাণ করতে  পারলে…সবাই ধরে নেয় আরে লোক টাতো খুবি ব্যক্তিত্বশালী ………।।হম্‌ম্‌ এর পিসে পিসেই থাকতে হবে।
আমরা এগুলা নিয়ে কখনো কথা বলি না। এগুলা হয় হইতাসে  হবে…। পারলে টিকে থাকো ।
কেউ তোমার অপ্পমান করলে পারলে প্রতিশোধ নাও নইলে লেজ ধর।  সবাই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে ব্যস্ত।

মন্তব্য করুন

Older Posts »